নারায়ণগঞ্জ কথা : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফটো সাংবাদিক এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লাকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সাংবাদিক পরিচয়কে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখান আমজাদ।
ভুক্তভোগী কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, এসিআই পানির কল এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া জমি, বাড়ি কিংবা রাস্তা দখল করে রাখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, কোনো বিষয়ে তার কথামতো না চললে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হয়। এমনকি থানার পুলিশকে ব্যবহার করে হয়রানি করারও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, নারায়ণগঞ্জে নতুন ডিসি কিংবা এসপি যোগ দিলে তাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন আমজাদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি ধারণা তৈরি করেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আমজাদের সক্রিয়তার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে তাকে নিয়মিত দেখা যেত। এছাড়া আঃলীগের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা ও একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আমজাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। এসব কর্মসূচিতে তার ছবি সংবলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিবাদ হিসেবে ছবিতে জুতা ও ঝাড়ু নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি আয়োজকদের।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী হিসেবে ‘ছড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
অন্যদিকে, আমজাদ হোসেন মোল্লার এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক সম্পত্তিও জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। হামলা-মামলার ভয় দেখানোর পাশাপাশি পুলিশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি ভোগদখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি সব মিলিয়ে এলাকায় এক ধরনের প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন আমজাদ। ফলে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই হয়রানি কিংবা মামলার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফটো সাংবাদিক এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।