রেলওয়ের জলাশয় দখলকারী চক্রের ষড়যন্ত্রের রাজনীতির বলি দুই ভাই
জসিম উদ্দিন,
হাজীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জলাশয় জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পত্তি দখলে রেখে উল্টো হয়রানি করে আসছে স্বপন গং পরিবার।
আর এ ষড়যন্ত্রেও শিকার ফয়সাল হোসাইন ও সাইফুল হাসান নামে দুই সহোদর। তাদের দুই ভাইকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হয়রানি করতে স্বপনের স্ত্রী আমেনা বেগমের একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসছে। তার সত্যতার স্বীকার করে ভিডিও ধারণকারী সুদিয়া গ্রামের মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে মাদকাসক্ত শরীফ।
রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করতেই প্ররোচনায় লিপ্ত হয়েছেন বলে জানান শরীফ।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পদের আওয়াধীন হাজীগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ২ একর ২৬ শতাংশ পুকুর ৫ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ গ্রামের মৃত স্বপন মিয়ার পরিবার।
সরকারিকরণ জলাশয় মাছ চাষের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তির নিয়ম থাকলেও তা নাম আবেদন পত্র দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এ জলাশয় ভাড়া দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকারে স্বপনের স্ত্রী আমেনা বেগম। তবে তাদের নামে রেলওয়ের জলাশয়ে মাছ চাষের লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সরকারি জলাশয় জোরপূর্বক ভাড়া দিয়ে অর্থ ভোগ করার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখায় যায়, ৫ বছর পূর্বে অস্থায়ী মাছ চাষের লাইন্সেস নেয় স্বপন। তিনি মারা যাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মাছ চাষের জন্য আবেদনের মাধ্যমে সরকারি ফি জমা না দিয়ে তা ভোগ করছে স্বপনের স্ত্রী আমেনা বেগম।
গত ১০/৯/২০২৪ তারিখে যথাক্রমে ১৩৬ স্মারকে লাগোয়া সম্পত্তির পাশাপাশি হওয়ায় মাছ চাষের লাইসেন্স পেতে আবেদন করে হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাজী বাড়ির মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল মহা ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত গত ২১/১/২০২৫ তারিখে হাজীগঞ্জ রেলওয়ের আওতাধীন মাতৈন মৌজার ২ একর ২৬ শতাংশ জলাশয়টি অস্থায়ী ভাবে মাছ চাষের লাইসেন্স পায় খোরশেদ আলম। নিয়ম অনুয়াযী সরকারি চালানে অর্থ জমা দিয়ে লাইন্সেস বুঝে পায়।
খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফয়সাল হোসাই ও তার ভাই হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল হাসানকে জড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে দখলদার আমেনা বেগম চক্র। রেলওয়ে জলাশয়ে মাছ চাষের লাইন্সেস প্রাপ্তির শর্তাবলির ১৬টি ধারার ৬ নং ধারাতে “রেলওয়ে কতৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে লাইসেন্সকৃত পুকুর/ ডোবা/ জলাশয় অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করা যাবে না” উল্লেখ্য রয়েছে। এ নিয়মটি ভঙ্গ করে রেলওয়ে কতৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাড়াই খাটাচ্ছেন আমেনা বেগম।
ঘটনার সূত্রপাতে জানা যায়, খোরশেদ আলমের মাছ চাষের লাইসেন্স পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আমেনা বেগম। ৫ বছর ধরে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা না দিয়ে জলাশয়টি ভাড়ায় খাটিয়ে আসছেন তিনি। দীর্ঘদিনের ভোগ দখল ও আয়ের মাধ্যমে রেলওয়ের সম্পত্তি হাত ছাড়া হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি স্বপনের স্ত্রী আমেনা বেগম। এ সুযোগে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে ফয়সাল হোসাইন ও সাইফুল হাসান দুই ভাই বলির পাঠা হয়েছে।
আমেনা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৯ আগস্ট রাতে তাৎক্ষণিক হাজীগঞ্জ থানার এসআই নাজমুল বিষয়টি তদন্তে যায়। তবে আমেনা বেগম পুলিশকে কোন লাইসেন্স প্রাপ্তির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
আমেনা বলেন, আমার স্বামী নিজ নিয়ে দীর্ঘদিন জলাশয়টি চাষাবাদ করেছে। আমার স্বামীর মৃতুর পর ৩১ সাল পর্যন্ত জলাশয়টি চাষের জন্য আবেদন করেছি।
আমি নিজে চাষাবাদ করতে পারি না। যার কারণে কয়েক বছর মিলনের কাছে ভাড়া দেই। এরপর মকিমাবাদ গ্রামের আজাদ রফিক এবং জাহাঙ্গীরের নিকট ভাড়া দেই। আমার স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে আমি পুকুরটি চেয়েছি। ফয়সাল হোসাইন ও সাইফুল হাসান দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা বিষয়ে জানতে চাই আমেনা বেগম এসময় বলেন, তারা খোরশেদ আলমের পক্ষ হয়ে কথা বলেছে।
ভিডিও ধারণকারী শরীফ হোসেন বলেন, এক বড় ভাই আমাকে বলেছে আমেনা আপনার কাছ থেকে একটি ভিডিও রেকড করতে তাই আমি করেছি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে কথা বলার জন্য বলেছি। আমি বুঝতে পারিনি। এ ভিডিও দিয়ে হাসান, হোসাইন দুই ভাইকে ফাঁসাতে করা হয়েছি।
রেলওয়ে চাঁদপুর অঞ্চলের সার্ভেয়ার মো. জাকির হোসেন বলেন, নিয়ম অনুয়াযী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাতৈন গ্রামের লাগোয়া সম্পত্তি হওয়ায় খোরশেদ আলমকে মাছ চাষের লাইন্সেস দেওয়া হয়। চালান কেটে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে আগামী রবিবার অথবা সোমবারের মধ্যে খোরশেদ আলমকে জলাশয়টি রেলওয়ে কতৃপক্ষের প্রতিনিধি বুঝিয়ে দেবেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ফয়সাল হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক ভাবে আমাদের দুই ভাইকে হয়রানি করা হচ্ছে। জলাশয়টি মাছ চাষের জন্য রেলওয়ে থেকে লাইসেন্স পেয়েছেন খোরশেদ আলম। সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে কেন আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে ফায়দা নেওয়ার জন্য একটি পক্ষ এমন চক্রান্ত করতে পারে বলে আমাদের ধারণা। এ বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিবো।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন ফারুক, আমেনা বেগমের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই পক্ষকে থানায় ডেকেছি। খোরশেদ আলমের নামে রেলওয়ের জলাশয় চাষের লাইসেন্স সহ কাগজ পত্র এসেছে। তবে আমেনা বেগম কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে সময় দিয়েছি।