হাজীগঞ্জে “আদালত কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনে সিনিয়র সহকারী জজ”
খোদ আদালতের বিচারক সরজমিনে এসে একের পর এক দীর্ঘদিনের মামলা করছেন নিস্পত্তি
মেহেদী হাছান॥
খোদ আদালতের বিচারক যখন সরজমিনে এসে একের পর এক দীর্ঘদিনের মামলা করছেন নিস্পক্তি। তখন-ই সেই বিচারককে নিয়ে চলছে আলোচনা। যে আলোচনা, তা হলো প্রশংসার পঞ্চমুখ। হাজীগঞ্জের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ আবদুল আলীম এর নাম।
গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ বাজার কিউসি টাওয়ারের একটি মামলায় চাঁদপুর আদালতের হাজীগঞ্জ কোর্টের বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম সরজমিনে এসে দীর্ঘ ৪ বছর চলমান মামলা নিস্পত্তি করে দেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী কিউসি টাওয়ারের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি উচ্ছেদ মামলা করেন বিবাদী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। ওই মামলাটি ২০২১ দায়ের করা হয়।
বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম সরজমিনে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বাদী ও বিবাদীর কথা শুনেন, কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন, উভয় পক্ষের আইনজীবির কথা শুনেন, মামলা নিস্পক্তির লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় নিয়ে সকল যক্তিতর্ক শেষে বাদী-বিবাদীকে সামনে রেখেই উভয়ের সম্মতিতে তাৎক্ষনিক মিটিয়ে দেন বিরোধ।
এটিসহ বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম এর পঞ্চম মামলা নিস্পত্তি। এর আগেও তিনি হাজীগঞ্জের নাটেহরা, মকিমাবাদ, রামচন্দ্রপুরসহ আরো ৪টি ভুমি মামলা নিস্পত্তি করেন।
সরজমিনে সরাসরি আদালতের বিচারক এসে এমন ভাবে মামলা নিস্পত্তি করছে, যা দেখে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, আদালতের এই সরেজমিন পরিদর্শনে বিচারপ্রার্থী জনগণ সল্প সময়ে, স্বল্প খরচে তাদের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ এই ধরনের আরো পদক্ষেপ বিজ্ঞ আদালত থেকে আশা করেন।
আদালতের পেশকার মো. জাবেদ ইকবাল জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমার বাদী পক্ষ আদালত কর্তৃক মোকদ্দমার নালিশা জমি সরেজমিন পরিদর্শন করে মোকদ্দমাটি তাৎক্ষণিক আপোষ মীমাংসা করতে দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর অর্ডার ১৮, রুল ১৮ ও এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি) সংক্রান্ত বিধানের অধীনে আবেদন করেন।
বাদীর এই আবেদনে শুনানি কালে বিবাদীপক্ষ অনাপত্তি দেয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মোকদ্দমার নালিশার স্থান সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী ২৬ জুন বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে বিজ্ঞ বিচারক সফলভাবে মোকদ্দমাটির বিরোধের স্থায়ী সমাধান করেন এবং ভবিষ্যতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গিকার করেন।
এ সময় বাদীর এডভোকেট শাহরিয়ার ইসলাম শাওন, বিবাদীর এডভোকেট শাহীন মজুমদার, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবুল কাশেমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন।