হাজীগঞ্জে রাজহাঁসের পা ভাঙাকে কেন্দ্র করে মারামারি ভাংচুর, আহত -৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের বাখরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী ও তার কিশোরী মেয়েকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
হামলার শিকার রিমা আক্তার (৩৪), স্বামী জাফর হোসেন, বাখরপাড়া নোয়া বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মঙ্গলবার (১০ জুন) হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে প্রতিবেশী মোঃ জাহাঙ্গীর মিজি (৩২) ও তার পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বিবাদী মোঃ লিয়াকত মিজি (৬৫) লাঠি দিয়ে তাদের একটি রাজহাঁসের পা ভেঙে দেন। এরপর বিকেলে বিবাদী মাহমুদা বেগমের (৬০) সঙ্গে বাদিনীর মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে আরও ৭ জন একত্রে হয়ে ধারালো অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে হামলা চালায়।
এ সময় তারা রিমা আক্তার ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে মাহমুদা বেগম বাদিনির গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (বর্তমান মূল্য আনুমানিক ২,৪৭,৫০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং সায়েরা বেগম (৩২) রিমার হাতে থাকা ৪৫,০০০ টাকার একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাদিনির মা বাসিমা বেগমের গলায় দা দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করে। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার গলার বাম পাশে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় রিমা আক্তারের কিশোরী মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং জামাকাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ আলীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক সানজিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রিমা আক্তার বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বারবার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না তাদের ভয়ে।”
এই বিষয়ে লিয়াকত মিজি বলেন, তারা অন্য এলাকায় থেকে লোকজন এনে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় তাদের ধারালো দা’র আঘাতে আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”