স্বয়ং আদালতের বিচারক উপস্থিত থেকে হাজীগঞ্জে ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে দেশে বহু হামলা ও খুনাখুনির মত ঘটনা ঘটছে! হয় মামলা! আর সেই মামলায় দু পক্ষকেই বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয়!
কিন্তু আর ঘুরতে হবে না আদালতে! স্বয়ং আদালতের বিচারক নিজে উপস্থিত থেকে দুই পক্ষের সম্পত্তির বিরোধ মিটিয়ে দিচ্ছেন চাঁদপুর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মো. আবদুল আলীম। এই ঘটনাসহ মোট ২ মামলা তিনি নিস্পক্তি করেন তিনি।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বিশ্বরোড এলাকায় বাদী মোহাম্মদ মোস্তফা ও বিবাদী মোঃ আনোয়ার হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের আদালতে বেশ কয়েক বছর আগে মামলা হয়।
মামলায় দলিলের চৌহুদ্দি, সিএস কিংবা বিএস-এ কিছুটা গলদ। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি তর্ক, এ নিয়ে বহু সালিস, বহু মাপ হয়েছে, কিন্তু সমাধান আর হয়নি। মামলা চলছে তো চলছেই, স্থায়ী সমাধান আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিরোধীয় সম্পত্তিস্থলে সরজমিনে আসেন স্বয়ং বিচারক। তিনি চাঁদপুরের আমলী আদালত (হাজীগঞ্জ)-এর সিনিয়র সহকারী জজ মো. আবদুল আলীম, সাথে আসেন সরকারি আমিন আর উভয় পক্ষের আইনজীবী ও আমিন।
ঘন্টা দুয়েকের মাপের পর, বাদী-বিবাদীর সব যুক্তিতর্ক শুনে, উভয় পক্ষের আমিনের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেন বিচারক। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বাদি-বিবাদি উভয় পক্ষ দেন কোলাকুলি। ঘটনাটি শুক্রবার (৩০ মে ২০২৫) হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বিশ্বরোড সর্দার বাড়ীর পিছনে।
আদালত সুত্রে জানাযায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ মো. আবদুল আলীমের আদালতে সম্পত্তিগত মামলাটি উঠে। বিচারক উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে সরজমিনে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
আদালত কর্তৃক মোকদ্দমার নালিশি জমি সরেজমিন পরিদর্শন করে মোকদ্দমাটি তাৎক্ষণিক আপোষ মীমাংসা করতে দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার ১৮, রুল ১৮ ও ADR (Alternative Dispute Resolution) সংক্রান্ত বিধানের অধীনে আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মোকদ্দমার নালিশি জমিতে সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সিদ্ধান্তমতে হাজীগঞ্জ উপজেলায় দেওয়ানী মোকদ্দমার নালিশি জমি দেখতে সরেজমিনে আসেন। সে সময় মামলার বাদী, বিবাদী, উভয় পক্ষের আইনজীবীগণ, আদালতের পেশকার, পুলিশ, সার্ভেয়ারগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তিনি বাদী, বিবাদী উভয়ের সম্মতিতে চূড়ান্ত মিমাংসা করে দেন এবং বিরোধীয় জমির সীমানা স্থায়ীভাবে চিহ্নিত করে সমাধান দেন।
এসময় বাদীর অ্যাডভোকেট মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রধানিয়া, বিবাদীর অ্যাডভোকেট মো: মোজাহিদুল ইসলাম (সাদ্দাম)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।