মাদকের ভাগ নিয়ে শিশুকে হত্যা, গ্রেফতার ১
নিজস্ব প্রতিনিধি,
সাভারের আশুলিয়ায় এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাব্বানী মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বানী মোল্লা পুলিশকে জানিয়েছে মাদক সেবনের সময় মাদকের ভাগ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ওই শিশুকে হত্যা করা হয়।
রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম।
এর আগে সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত, মো. জীবন (১২) গোপালগঞ্জ জেলার মো. মজিবর শেখের ছেলে। বর্তমানে সে পরিবারসহ সাভার উপজেলার আশুলিয়ার থানার কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া এলাকায় থাকতো।
গ্রেফতার, মো. রাব্বানী মোল্লা নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রামবাড়ির মো. মিলন মোল্লার ছেলে।
নিহত জীবনের বাবা মো. মজিবর শেখ জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার দিকে আশুলিয়ার থানার কাঠগড়া পালোয়ানপাড়ায় বাসার নিচে খেলার উদ্দেশে বের হয় জীবন। এরপর আর সে বাসায় ফেরেনি। পরদিন অপরিচিত একটি মুঠোফোন নাম্বার থেকে জীবনের বাবা মো. মজিবর শেখের নাম্বারে কল করে এক ব্যক্তি ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয় ওই ব্যক্তি।
তিনি বলেন, এঘটনায় পুলিশ রাব্বানীকে গ্রেফতার করলে রাব্বানী জানিয়েছে গাজা খেতে বলার পর জীবন খেতে না চাইলে সে একাই জবাই করে হত্যা করেছে। একা কিভাবে হত্যা করা সম্ভব। তাছাড়া এ ঘটনার পেছনে অন্য কোন কারণ আছে।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে অপরিচিত নাম্বার থেকে একজন আমাকে কল দিয়ে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এছাড়া আরো ৫০ লাখ টাকা পরে তাকে দিতে হবে বলে জানায়। লাশ উদ্ধারের পর বুঝতে পারি অপহরণের দিনই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ১২ বছরের কিশোর জীবন গত বৃহস্পতিবার বাসার সামনে খেলতে গিয়ে নিখোজ হয়। পরে শুক্রবার অজ্ঞাত ব্যাক্তি ফোন করে মুক্তিপনের জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে তার পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। অভিযোগ পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতায় ঘটনায় জড়িত রব্বানীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে তার দেয়া তথ্য মতে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি। প্রাথমিকভাবে মাদককে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবীর বলেন, গ্রেফতার রাব্বানী মোল্লা মুক্তিপণের আগেই জীবনকে খুন করে। মুক্তিপণের উদ্দেশ্য ছিলো তাঁকে যাতে কেউ সন্দেহ না করে। মূলত মাদক সেবনের সময় মাদকের ভাগ নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়।