চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন দুই পরিবার। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ডাটরা-শিবপুর গ্রামের কাজী বাড়ি সংলগ্ন নতুন পাটওয়ারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ওই বাড়ির মৃত আব্দুল বারেক মাস্টারের দুই ছেলে বাবুল ও বিপুলের দুইটি বসতঘর ও দুইটি রান্নাঘর’সহ ঘরে থাকা আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা সহ পুড়ে প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয় বলে জানান
জানা গেছে, এদিন রাতে বিপুলের বসতঘরে আগুন লাগে এবং ঘরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বাস্ট হয়ে বাবুলের বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পাড়ে। এসময় দুই পরিবারের সদস্যদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে তারা মসজিদে মাইকিং করে এলাকার লোকজনকে জানান দেন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের খবর দেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় বসতঘরের ধারে-কাছেও কেউ যেতে না পারায় চারটি ঘর পুড়ে চাই হয়ে যায় । ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাবুল ও বিপুলের পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, জীবন (প্রাণ) নিয়ে কোনমতে ঘর থেকে বের হয়েছি। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই রইলো না।
গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু বলেন, আগুনে সবকিছু পুড়ে দুইটি পরিবার পথে বসেছে। তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি।
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও তারা আসেনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. বাহার উদ্দিন বলেন, রাত ৩টার দিকে একজন ভদ্রলোক ফোন দিয়ে আগুন নিভে যাওয়ার খবর দিয়েছেন। তখন আমরা তাকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি জানান, আপনাদের আসার দরকার নেই। আগুন নিভে গেছে।
আগুনে পুড়ে যাচ্ছে কিংবা আগুন জ¦লছে এমন খবর পাইনি উল্লেখ করে তিনি জানান, কোন সংবাদ পেলে যতো প্রতিবন্ধকতাই থাকুক, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের ঘটনাস্থলে দ্রুত এবং তাৎখনিক পৌঁছাতে হবে। কিন্তু সংবাদ না পেলে কি করে জানবো এবং কোথায় যাবো, আর কাছে যাবো?
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।