যতই ষড়যন্ত্র করো, লড়বো আবার দারুন সূর্য হবো, লিখবো আবারো কোন ইতিহাস – পোস্টে বার্তা দিলেন বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
নারায়ণগঞ্জ কথা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির সদস্য সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু আল ইউসুফ খান টিপু সেই পোস্টে লিখেছেন,
_“যতই ষড়যন্ত্র করো, লড়বো আবার
দারুন সূর্য হবো, লিখবো আবারো কোন ইতিহাস।”
দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আইনজীবী অঙ্গন ও একটি বিশেষ মহলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে টিপুর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি এই পোস্ট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
টিপুর পোস্টের অন্তর্নিহিত বার্তায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টিপুর বক্তব্যে যে স্পষ্ট দিক ফুটে উঠেছে। এখানে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো ধরনের চক্রান্ত তাকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক লড়াই থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। যা পরাজয় নয় বরং নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছেন।
“দারুন সূর্য হবো, লিখবো আবারো কোন ইতিহাস” এই পঙ্ক্তি তার মনোবল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, আইনজীবী অঙ্গনের একটি অংশ এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহল টিপুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক তৎপরতাকে ঠেকাতে অপপ্রচার ও হয়রানির আশ্রয় নিয়েছে।
দলের সিনিয়র নেতারা ও বলেছেন, একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীকে পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে কোণঠাসা করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চা ও পেশাগত নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
ত্যাগী রাজনীতিবিদের পরিচয় তারা উল্লেখ করে বলেন, আবু আল ইউসুফ খান টিপু বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি।
দলীয় সূত্র জানায়, দুঃসময়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে মাঠপর্যায়ে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীরা তাকে আদর্শনিষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
এ বিষয়ে টিপুর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, তিনি সব ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলানপ্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করবেন। একইসঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তার এই পোস্টকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন।
তবে লক্ষনীয় হলো, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, তবে পেশাগত মঞ্চকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঘটনাটি আইনজীবী সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নৈতিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আলোচনা টেবিলেই সমস্ত সমস্যা সমাধান করা যায় এবং আইনজীবীদের সম্মানার্থে সুষ্ঠু সমাধান চান দলীয় নেতাকর্মী।