বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০

বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন,বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যেগে ১১ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন

 

নারায়ণগঞ্জ কথা : বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন,বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যেগে নৌযান শ্রমিক,কর্মচারী ও নাবিকদের মালিক কতৃক খোরাকি ভাতা ফ্রি প্রদান,নৌযান আইন মেনে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল সিরিয়াল অনুযায়ী চট্রগ্রাম সমুদ্রগামী লাইটারেজ জাহাজ চলাচল,কর্মস্থলে দূর্ঘটনায় নৌ শ্রমিকদের মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ ১২ লক্ষ টাকা প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের উপরে সকল প্রকারের জুলুম নির্যাতন হয়রানির বন্ধ সহ ১১ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন  অনুষ্ঠ‍ানের আয়োজনে করা হয় ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।

মানববন্ধনের প্রধান আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মোঃসবুজ সিকদার বলেন, আমরা শ্রমিকরা কচুরীপনার মতো নদীতে ভেসে কাজ করি। আমরা নৌ পথের শ্রমিকেরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বল্ল খরচে যাত্রী পরিবহনে কাজ করি। পরিবার,সন্তান,আনন্দের মায়া ত্যাগ করে ঈদের সময়েও আমরা এই নদী পথে কাজ করে যাই। কাজ করি বিভিন্ন কন্সটাকশন, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য গুলি মানুষের কাছে সহজে পৌছে দেই । এই পন্য পরিবহন করতে গিয়ে অনেকের অকালে জীবন হারাতে হয়।

আপনেরা দেখেছেন ১০ বছর আগেও এই শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে কোন জাহাজ যেতে হলে জোয়ারের অপেক্ষা করতো কিন্তু আমরা শ্রমিকেরা নদীর বালি উঠিয়ে ইজাদার ছাড়াই বলগেট দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি যাতে আর জাহাজ মাঝ নদীতে না আটকে থাকে।আজকে বসুন্ধরা, মেঘনা,প্রিমিয়াম সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর কাঁচা পন্য এই আমরা শ্রমিকেরা পরিবহন করি নদী পথে।আপনাদের জীবন বিলাসবহুল করে তুলেছি।এই করোনা মহামারিতে সবাই যখন বাসায় বসে ছিলো আমরা নৌ শ্রমিকেরা কাজ করেছি কম মূল্যে আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য।প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারিতে সবার কথা চিন্তা করেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমাদের কোন সাহায্যের ব্যবস্থা করে নাই।

সবুজ সিকদার আরো বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি আমাদের অধিকারের জন্য।তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালে নৌ আইন প্রতিষ্ঠা করেছে।নৌ পুলিশ নামিয়েছে।কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই নৌ পুলিশ আমাদের কোন সাহায্য না করে বরং আমাদের শ্রমিকদের হাতে হাত কড়া পরায়।স্বাধীনতার পর এই প্রথম নৌ যানের ফাস্টক্লাস মাস্টারের গায়ে হাত তুলেছেন।কিছুক্ষণ আগে আমাদের দেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রী চাঁদপুর ও বরিশাল যাবার জন্য নারায়ণগঞ্জ হয়ে গিয়েছেন।গতকাল এই বিষয়ে জানানো হয়েছিলো তাই কিছু কোষ্টগাড নদী পথে তান্ডব চালিয়েছে।আমরা শ্রমিকেরা

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই আমাদের অধিকার বাস্তবায়িত করতে । সরকারের কাছে কোন সাহায্য ও চাই না ।  আমরা কোন ত্রান চাই না। আমাদের পাওনা বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন। শ্রমিকদের উপর যে চরম নির্যাতন বন্ধ করুন। আমাদের প্রয়াত নেতা শুক্কুর মাহমুদ থাকাকালীন সময় নৌযান শ্রমিকদের জন্য একটি আইন হয়েছিলো কিন্তু আমরা যে অধিকার গুলো দাবী করেছিলাম তখন আমাদের কোন দাবীই বাস্তবায়িত হয়নি। নদী হচ্ছে একটা বাগান,জাহাজ হচ্ছে ফুল আর আমরা জাহাজী শ্রমিকেরা হচ্ছি মালি।আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আপনি আমাদের নৌযান শ্রমিকদের ১১ দফা দাবী মেনে নিয়ে শ্রমিকদের বাঁচার স্বপ্ন দেখান ।

বর্তমান নৌ মন্ত্রীকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো আমাদের শ্রমিকদের উপর যে জুলুম নির্যাতন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো তা বাস্তবায়ত করবে কিন্তু না তিনি কিছু কুচক্র মহলের জাহাজি মালিকদের সাথে বসে আলোচনা করে আমাদের শ্রমিকদের কথা চিন্তাই করে না।তাই মন্ত্রীকে বলবো আপনে আমাদের শ্রমিকদের সাথে বসে আমাদের সমস্যা গুলো সম্পর্কে জানেন আমরা শ্রমিকেরা বড় অসহায় ও নির্যাতিতভাবে জীবন অতিবাহিত করছি।তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে আমরা সরকার বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন করছি না আমাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছি আপনে আমাদের শ্রমিকদের অধিকারের লক্ষ্যে এই ১১ দফা মেনে নেন।

মানবন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শাহ আলম,জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু, মুক্ত গার্মেন্টস সভাপতি জুয়েল প্রধান,সহ-সভাপতি নাঈম ইসলাম মিশাল, সহ-সভাপতি কাজি গোলাম,জাকির হোসেন,আক্তার হোসেন প্রমূখ।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares
error: Alert: Content is protected !!