বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

কেউ বাবার কবর পাচ্ছে না কেউ বা মায়ের ঐতিহাসিক মানববন্ধনে তীব্র প্রতিবাদ

 

নারায়ণগঞ্জ কথা : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে শাহী মহল্লা এলাকায় কবরস্থানের ওপর মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক মানববন্ধনের আয়োজন করেন কুতুবপুরবাসী। যার কুতুবপুর এর ৩২ টি সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ হাজারো সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনে যোগদান করেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ঘটিকায় শাহী মহল্লা কবরস্থানের সামনে ঐতিহাসিক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।সরেজমিনে দেখা যায় কবর স্থানান্তর না করেই ১২ কাঠা জমির মধ্যে উপরে মসজিদ এবং নিচতলায় পুরো অংশটিতে মার্কেট এর নমুনা করা হয়।

আর যাতে করে কাজ করার সময় বেরিয়ে আসছে কারো মাথার খুলি হারসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ যা ছিল অগণিত কেউ খুঁজছে তার বাবার কবর কেউবা মায়ের কেউবা ভাই ও আত্মীয়স্বজনের তাদের প্রশ্ন আমার বাবার কবর কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে আপনারা একটু দেখিয়ে দিন।

এরকম অনেক পরিবার তারা তাদের স্বজনদের কবর খুঁজে পাচ্ছে না সত্যিই অমানবিক।যার দায় কবরস্থান কমিটি এড়িয়ে যেতে পারে না এবং মানববন্ধনে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন এলাকাবাসী এবং বলেন এমন দুষ্কৃতিকারী ধান্দাবাজদের অবস্থান করে থাকার কোনো যোগ্য নেই।

এ সময় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সি বলেন, কবরস্থান কারো একার সম্পত্তি নয় এটা এলাকাবাসীর এখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকলের মত নিতে হয়। আমি প্রথমেই বলতে চাই কবরস্থানের উপর মার্কেট এটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কারণ কবরস্থান এর উপর মার্কেট হলে মার্কেটের ভিতরে মহিলারা আনাগোনা করবে জুতা পায়ে দিয়ে মার্কেটে ঢুকবে যা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য একটি কাজ আর এই জঘন্য কাজটি জঘন্য মানুষের দ্বারাই সম্ভব। আমরা এই নেক্কারজনক কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মানববন্ধনে একাত্মতা জানিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার রোকন উদ্দিন রোকন বলেন, কবরস্থানের উপর মার্কেট এটা আমি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না একদিন আমার বিনা খরচে আপনার সকল কি মরতে হবে তাই কবর কে নিয়ে কেউ বাণিজ্য কইরেন না। একবার ওমরা হজ্ব করলেই হাজী হওয়া যায় না এখনো সময় আছে ভালো হোন। এ সময় তিনি আরো বলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু সাহেব আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন কবরস্থানের উপর মার্কেট হবে না। এলাকাবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা ধৈর্য ধরুন আমাদের জয় নিশ্চিত।কোন ভাবেই কবরস্থানের উপর মার্কেট হতে দেওয়া হবে না।

এর আগে কবরস্থানের উপর মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মিরু জানান, কমিটির লোকেরা যেখানে মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই জায়গাটিতে কমপক্ষে ২০ হাজারের উপর কবর হবে এমনকি বেশিও হতে পারে উনারা কি করে পারেন এই অগণিত এত কবরের উপর মার্কেট নির্মাণ করতে আমার বুকে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত কবরস্থানের উপর মার্কেট নির্মাণ বন্ধ করে ছাড়বো।কবরস্থানের উপর মার্কেট বন্ধের দাবিতে পাগলা বাজার জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মোল্লা বলেন,মানুষের টাকার কি এতই প্রয়োজন কারো বাবার লাশ কারো মার লাশ কারো ভাইয়ের লাশ কারো বোনের লাশ কারো সন্তানের লাশ তুলে মার্কেট বানাতে হবে ।

আমি আজ দেখেছি অনেক মানুষ কেঁদেছে, এটা কারো কাম্য নয়। মসজিদ বড় করতেই হলে কবরস্থানের একটু আগে পরে দুটি মসজিদ আছে সেগুলা বড় করে দেন আর কবরস্থানের সামনে ছোট একটি মসজিদ করেন ও কবরস্থানে অফিস করেন তাহলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় তাছাড়া ইচ্ছা করলেই তো জায়গা কিনতে পারছেন না এমন নয় যে কবরস্থানের জায়গা বৃদ্ধি করে ফেলবেন ।এখনো সময় আছে ভেবে দেখবেন।তা না হলে আখেরাতে আপনাদের এর জবাব দিতে হবে দুনিয়া বেশি দিনের নয় ক্ষনিকের জন্য দুনিয়া। আপনারা ও এর বাসিন্দা হবেন।

উক্ত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস দেওয়ান, কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান হক, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড মহিলা মেম্বার অনামিকা হক প্রিয়াঙ্কা কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাফফর, কুতুবপুর ১৪ পঞ্চায়েত সভাপতি মোজাফফর সিং, শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন সুজন, যুবলীগ নেতা মেহেদী, মোঃ মনির হোসেন, সাকিল মির্ধা, সাঈদ রেজা, কাজী সজীব সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ হাজারো মানুষ এই ঐতিহাসিক মানববন্ধনে যোগদান করেন।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares
error: Alert: Content is protected !!