সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

প্রায় কয়েক লাখ শিশুর জটিল সব রোগব্যাধির টিকাদান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে :অভিভাবকরা

 

নারায়ণগঞ্জ কথা : করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় শিশুদের ইপিআই ও হাম–রুবেলার টিকাদান কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় কয়েক লাখ শিশুর জটিল সব রোগব্যাধির টিকাদান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব টিকা শিশুদের একটি নির্ধারিত বয়সের মধ্যেই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কে এ একাডেমী কিন্ডারগার্টেন এর শিক্ষক মোঃমনিরুজ্জামান বলেন,আমার সন্তান জন্মের ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম ইপিআই টিকা দিলেও এখন আমার সন্তানের আড়াই মাসের বেশি বয়স হয়ে গেছে অথচ ৬ সপ্তাহে যে ডোজ দিতে হয় তা দিতে পারি নাই।কারন নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা ভাইরাসের কারনে সকল ইপিআই টিকা দান কেন্দ্র বন্ধে হয়ে আছে । এর ফলে আমার সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। নির্ধারিত বয়সে বাচ্চাদের এই টিকা না দিলে অন্য সময় এই টিকার কার্যকারিতা থাকে না।এই মুহূর্তে কি করবো বুঝতে পারছি না। বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকেও যোগাযোগ করেছি কিন্তু করোনার কারনে সেগুলো বন্ধ।

গৃহিণী শামসুন নাহার বলেন,আমার কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেছে আজ ৩৭ দিন চলে। জানি না বাচ্চাকে টিকা দিতে পারবো কিনা।শিশুদের সুরক্ষা ও বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষার জন্য এই টিকা দেওয়া হয় কিন্তু আমার সন্তানকে এখনও পর্যন্ত কোন টিকা দিতে পারি নাই।আর কবে পারবো দিতে তারও নিশ্চয়তা নেই। ইপিআই টিকার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন জানায় ,সরকারের নির্দেশনা আছে যে এই কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। তা ছাড়া সঠিক সময়ে শিশুদের টিকা না দিলে এসব টিকার কার্যকারিতা থাকে না।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত জেলার মধ্যে দ্বিতীয় জেলা হওয়ায় ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে গত ৮ এপ্রিল থেকে লকডাউন করা হয়েছে এবং প্রতিদিন এই জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তাই শিশু,গর্ভবতী মা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক দুরত্বের কথা বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল ইপিআই টিকাদান স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।এছাড়াও মার্চের ১৮ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে জেলায় ৬লাখ (৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচে) শিশুকে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে।

অস্থায়ীভাবে কোথায় কোন কেন্দ্রও বসানো যাচ্ছে না।এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের তাদের লক্ষ মাত্রা পূরন করাও সম্ভব হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনায় রেড জোন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সব স্থানে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।তাই শিশু,গর্ভবতী মায়েদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সকল কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় শিশুর জন্মের পর থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিসিজি টিকা নিতে হয়। এই টিকা যক্ষ্মা রোগ থেকে রক্ষা করে।

এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধে তিন ডোজে হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া হয়। পোলিও রোগ প্রতিরোধে জন্মের পর থেকে ২ মাসের মধ্যে প্রথম, ৪ মাস বয়সে দ্বিতীয়, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে শেষ ডোজ দিতে হয়। টিটেনাস, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশি, রোটা ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম–রুবেলা, চিকেন পক্স, হেপাটাইটিস এ ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে জন্মের পর থেকে কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ১১টি টিকা বিনা মূল্যে শিশুদের দেওয়া হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares
error: Alert: Content is protected !!