Home জীবন কথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেবের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া চেয়েছেন তার দৌহিত্র ভিপি জামির হোসেন রনি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেবের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া চেয়েছেন তার দৌহিত্র ভিপি জামির হোসেন রনি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেবের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া চেয়েছেন তার দৌহিত্র ভিপি জামির হোসেন রনি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেবের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া চেয়েছেন তার দৌহিত্র ভিপি জামির হোসেন রনি

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ভিপি জামির হোসেন রনি তার দাদা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেবের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দেশবাসির কাছে দোয়া চেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা  ভিপি জামির হোসেন রনি সাংবাদিকদের  বলেন, আমার দাদার জন্য সবাই দোয়া করবেন তিনি প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি হোসেন) সাহেব ১৯০২ সালে নারায়নগঞ্জের নলুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল বেপারী। তাঁর ৮৪ বছরের রেখে যাওয়া ঐতিহাসিক কর্মময় জীবনকালে তাঁকে কিংবদন্তীর আসেন অধিষ্ঠিত করেছে।তিনি একজন ঐতিহাসিক রাজনীতিবীদই ছিলেন না, একজন ঐতিহাসিক সমাজকর্মী হিসেবেও তিনি অমর হয়ে আছেন।

তিনি একজন সৎ, ধার্মিক, নীতিবান এবং স্বাধীনচেতা ব্যাক্তি ছিলেন বলেই পরাধীনতার শিকলকে মনেপ্রানে ঘৃণা করতেন আর তাই ছেলে বেলা থেকেই বৃটিশবিরোধী একজন যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন।আর বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে তার এতিহাসিক ভূমিকার কারনে ভারতবর্ষের রাজনীতি সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং একজন ঐতিহাসিক রাজনীতিবীদের আসন লাভ করেন।তিনি ছিলেন তৎকালীন মুসলীম লীগের অন্যতম নেতা।কিন্তু ভারতবর্ষের বিভক্তের পরও তিনি যখন দেখলেন, দেশ বিভক্ত হয়েছে মাত্র অথচ দেশ পরাধীনতার ছিকলে এখনো বন্দী তখনই তাঁর স্বাধীনচেতা মন পূনরায়  জাগ্রত হয়।ফলে তিনি পাকিস্তানী শোষক বিরোধী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এরই পরিপ্রেক্ষীতে তিনি ভাষা আন্দোলনে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।(সাহিত্য ও সমাজকল্যান মূলক পত্রিকা-বন্ধন, ২০ ফেব্রুঃ/৮৭ থেকে সংগৃহীত)। ১৯৫৬ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও তিনি মুসলীম লীগ নেতা হিসেবে শের এ বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাথে সাথে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৬ সালের বন্যায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব যখন প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয় বায়তুল আমানের ক্যাম্পে বাসন্তী রং এর খদ্দরের পাঞ্জাবী ও পায়জামা পার অবস্থায় এসে পানি ও কায়দায় নেমে পড়েন ও টিকাদানের কাজ করে টি হোসেন সাবের আয়োজিত কর্মসূচিতে টি হোসেন সাহেবের ছোট্ট ডিংগী নৌকায় চড়ে সমস্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাকবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে হাজার হাজার মানুষের শক্তি হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠায় তিনি মাওলানা ভাষানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের নিয়ে রেখেছিলেন অন্যতম ভূমিকা।তাঁর নলুয়া গ্রামের বাসভবনে মাওলানা ভাষানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসংখ্যবার এসেছেন, থেকেছেন এবং নিয়েছেন দেশের তরে কিছু মূল্যবান সিদ্ধান্ত।তারই ধারাবাহিকতায় তা চর উদাত্ত আহবানে পাইকপাড়া মিউচুয়াল ক্লাবে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি অমর হয়ে আছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই তিনি একজন খাঁটি আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবেই নিজেকে অধিষ্টিত করেছেন।১৯৬৬ সালের ৮ মে নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগের জনসভায় ৬ দফা আন্দোলনের বক্তৃতা পেশ করেই ঢাকায় ফিরে ঐ রাতেই গ্রেফতার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ।৬৬’র ৬ দফায় নারায়নগঞ্জে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটে।৬৬ ‘র ৬ দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার হবার পর ও টি হোসেন সাহেব, সামুজ্জোহা সাহেব, খাঁজা মহিউদ্দিন সাহেব এবং খোঁকা মহিউদ্দিন সাহেব সহ নেত্রীবৃন্দ আন্দোলন চালিয়ে জান।৬৬’র ৬ দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  বাস ভবনে চলে যেতেন, বাজার-সবাই করে পরিবারের যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে যা যা দরকার তাঁ করে আসতেন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবং তাঁর পরিবারের সবার টি হোসেন সাহেবের অতি ঘনিষ্ট সম্পর্ক।তাঁকে দল বদলের জন্য নানা রকম বল প্রয়োগ করা হলেও তিনি কখনো নীতিভ্রষ্ট হননি।সত্য আর সততা এবং নীতিগত ব্যাক্তিত্ব তিনি আমৃত্যু অটল রেখেছেন।অনেক বাঁধা বিঘ্নের পরও তাঁকে তাঁর প্রানের দল আওয়ামীলীগকে ছাড়াতে পারেনি কেউ।অথচ তাঁর সমসাময়িক বহু নেতা নিজ প্রয়োজনে দল বদলের ডাকে সাড়া দেয়, যা ইতিহাসের পাতায় আজ সূচিত।নীতিভ্রষ্ট করার মতো কালিমা তাঁর কে কশাঘ্রও স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই শুধু ছিলেন না, তদানিন্তন ঢাকা জেলার অধীন নারায়নগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের ( নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে রেখেছিলেন অন্যতম ভূমিকা।দৈহিক এবং আর্থিক উভয় ভাবেই তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন।৬৯’র গনঅভ্যুথ্যানেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ে পালন করেছেন অগ্রনী ভূমিকা।

তিনি নেতৃবৃন্দদের নির্বাচনী মনোনয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রাখলেও নির্বাচন করার কোন লোভ বা লালসা তাঁকে স্পর্শ আমৃত্যু করতে পারেনি। সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হলে তিনি আওয়ামীলীগের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।১৯৭১র মুক্তিযুদ্ধে তিনি তাঁর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বাড়ীতে অবস্থান অটুট রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের দায়িত্ব পালনে সদা সচেষ্ট ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা সহ আর্থিক সহযোগিতায় তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তার প্রভাব দ্বিগুন বেড়ে যায় কিন্তু নিজ ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তিনি কখনো রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগায় নি।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  তাকে অনেক কিছু দিতে চাইলেও তিনি তাঁর নীতিতে ছিলেন সদা অটল।ক্ষমতার মসনদ কিংবা সম্পদের লোভ বা লালসা তার চরিতার্থ আর নীতিকে কখনো কলংকিত করার সূযোগ ই পায়নি। নারায়নগঞ্জের খাল ঘাটে অবস্হিত ষ্টীমার ঘাটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরিশালের উদ্দেশ্য যাত্রাকালে অগনিত নেতাকর্মীবৃন্দ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  ফুলের মালা পড়িয়ে দিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  নিজের গলা থেকে সব মালা খুলে সব মালা টি হোসেন সাহেবের গলায় পড়িয়ে দিয়ে বলেন, এ মালা আমার প্রাপ্য নহে, এ মালা বাংলার নবাবজাদা নসিরুল্লাহ সাহেবের প্রাপ্য।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি হোসেন) সাহেবকে অন্তর থেকেই শ্রদ্ধা করতেন তাঁর সত্য-সততা, অটল নীতি এবং ব্যাক্তিসত্তায় তাঁকে বাংলার নবাবজাদা নসিরুল্লাহ উপাধীতে ভূষিত করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তিনি মর্মাহত হন। ১৯৮২ সালের ১৭ই মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র সূযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে উপস্থিত থেকে শেখ হাসিনাকে বরন করেন, যা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে ।সামাজিক এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল অনেক। তিনি বায়তুল ইজ্জত জামে মসজিদের এবং উত্তর নলুয়া জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি জয় গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ছিলেন।বাংলা’র এই মহান নেতা সত্য, সততা এবং নীতিতে অটল ছিলেন।

প্রয়াত জননেতা তসদ্দক হোসেন (টি, হোসেন) সাহেব  লিভার জনিত রোগে ১৯৮৬ সালের ১০ ই রমজানে  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৮ নং ওয়ার্ড এলাকায় তাঁর বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মৃত্যু সময় স্ত্রী,  তিন ছেলে ও তিনটি কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Shares
error: Alert: Content is protected !!