Home ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা
পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা

নারায়ণগঞ্জ কথা : পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা  অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম’র সভাপতিত্বে।

রবিবার(০১ মার্চ) সকালে জেলা পুলিশ লাইনে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান।

তিনি বলেন,  এখানে আপনারা যারা রয়েছেন তারা কোনো দলের সমর্থক না। কিন্তু এখন   প্রশাসনের ভিতর যে দলবাজীটা হয় তাতে আমি সমর্থন করি না। প্রশাসনের মধ্যে আরো দক্ষ লোক থাকা দরকার বলে আমি মনে করি। আপনারা খুব সম্মানজনক কাজ করেন। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে পুলিশের অত্যন্ত সম্মানজনক একটি কাজ এবং আমার মনে হয় বাংলাদেশের পুলিশ ধীরে ধীরে এই জায়গাটিতে মোটামুটি এসে গেছে, আর কিছুদিন পর তার থেকে আরো ভালো অবস্থানে আসবে।

তিনি আরো বলেন, আজকের পুলিশ আর ২০/৩০ বছর আগের পুলিশ কিন্তু এক না। আজকের পুলিশের মধ্যে বা আজকের জেলা প্রশাসনের মধ্যে দেখা যাবে উনি মুক্তিযোদ্ধার ঘরের সন্তান। এখানে যারাই আছেন তারা মুক্তিযোদ্ধার প্রোডাক্ট। 

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারছি কিনা তা আমি জানিনা। সাধারণ মানুষ আপনাদের উপর অনেক ভরসা করে।  আমি আগেও বলেছি মানুষ উন্নয়ন চায় কিন্তু তার থেকেও বেশি সুশাসন চায়, শান্তি চায়। চলেন সবাই একসাথে কাজ করি। আপনিও একা  পারবেন না আর আমিও একা পারবো না। ত্রিশ  লাখ শহীদের রক্তে আপনারা পুলিশ বাহিনী।

প্রথম ধাপ হচ্ছেন আপনারা এরপর হচ্ছে জেলা প্রশাসক সাহেবরা। উনি আপনাদের শক্তিতে শক্তিশালী, আপনারা যদি ওনাকে সহযোগীতা না করেন উনি এককভাবে পারবেন না। আমাদের নারায়ণগঞ্জে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর আগে র‍্যাবের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তারপর বিভিন্ন কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উচিত সেখান থেকে বের হয়ে আসা। সবটা সমান না। আমাদের সবার একসাথে কাজ করা দরকার। অন্য কোন দলকে দমন করার জন্য আমাদের পুলিশের দরকার নেই, নারায়ণগঞ্জে আমরা আওয়ামীলীগই যথেষ্ট। ৭৯ সালে জিয়াউর রহমানকে আটকিয়ে রাখা লোক আমরা।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি নারায়ণগঞ্জগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদ্যসের আত্মসম্মান বেড়ে গিয়েছে। তারা সবসময় কষ্ট করে। এর আগে আমি পার্শ্ববর্তী জেলায় সাড়ে তিন বছর কর্মরত ছিলাম। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এত কষ্ট করতে হয়, আমার মনে হয় না সারা বাংলাদেশে আর কোনো পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের এত কষ্ট হয়। ডিএমপিতেও দেখিনি এত কষ্ট করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে লোকের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখের মতো। আর পুলিশ মাত্র ২১শ। এই ২১শ পুলিশ সদস্য দিয়ে দিয়ে এত লোকের সেবা করা সত্যি দূরুহ। তারপরও সেটা করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আল্লাহর রহমত আর আপাদের জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যমের প্রতি অনুরোধ রেখে পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের খারাপ দিকটাই মানুষ বেশি প্রচার করে। আমি অনুরোধ জানাবো, সেই সাথে আমাদের কষ্টটাও দেখবেন। কষ্টটাও বলবেন। আমার পুলিশ সদস্যরা ঠিকমত ঘুমাতে পারে না। তারা দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন। এই নারায়ণগঞ্জে আরও পুলিশ সদস্য বাড়ানো দরকার। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। আপনারা যারা জনপ্রতিনিধি আছেন আপনারাও সংসদে এই কথাটা বলবেন। তাহলেই আমরা পুলিশ সদস্য পাবো। অন্তত আরও দুই হাজার সদস্য যাতে পাই। তাহলে আরও বেশি করে আপনাদের সেবা দিতে পারবো।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোঃ জসীমউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা পুলিশিংয়ের সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রমুখ।

Shares
error: Alert: Content is protected !!