শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০

জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের মিত্যুর পর চাঁদাবাজি টাকায় ভাগ নিয়ে চুপ হয়ে জান : শ্রমিক নেতা মাহামুদ হোসেন

 

নারায়ণগঞ্জ কথা : নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সবুজ শিকদারের নামে একটি হত্যা মামলা হয় । হত্যা মামলা  কেন্দ্র করে সুযোগ নিয়েছেন নৌ সেক্টর দখল করতে শুরু করেছেন শ্রমিক নেতা মাহামুদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে নৌ সেক্টর নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সবুজ শিকদারের নিয়ন্ত্রনে ছিল। শ্রমিক নেতা মাহামুদ হোসেন বেশ কয়েকটি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে নৌ সেক্টর দখল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জানাযায় জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের মৃত্যুর পর ২৯ জানুয়ারি রাতে শহরের ৫নং খেয়াঘাট এলাকায় মাহাবুব রহমান (৩৬) নামের জাহাজ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকলীগ নেতা সহ ৯জনের বিরুদ্ধে। জাহাজী শ্রমিক নেতা হওয়ায় জাহাজী শ্রমিকদের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে নৌ-যান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকাদারের সঙ্গে বিরোধ থাকায়  হত্যা মামলা জের দরে  সুযোগ নিয়েছেন শ্রমিক নেতা মাহামুদ হোসেন।

পরিবারের অভিযোগ, পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। মাহবুব তৃতীয় শ্রেণির ইঞ্জিন চালক ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বারাংকুলা গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারর পক্ষ থেকে বন্দর থানায় সবুজ শিকদার সহ ৯জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪ টায়  দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দরা। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শ্রমিক মাহাবুবের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতা মাহমুদ হোসেন বলেন, আমি আগেও সবুজ শিকদারের নামে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের কাছে অভিযোগ করি তিনিও তাদের চাঁদাবাজি টাকায় ভাগ নিয়ে চুপ হয়ে জান। নিহত শ্রমিক মাহমুবুর রহমান  তৃতীয় শ্রেণির একজন ইঞ্জিন ড্রাইবার ছিলেন । সে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরে কিছু টাকা সংগ্রহ করেছে। সেই সংগ্রহীত টাকা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করার চিন্তা ভাবনা করেছে। মাহমুবুর রহমান  একটি জাহাজ বানানোর জন্য ওই খুনি চক্রকে ৩ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেয়। সেই টাকা মেরে দেয়ার জন্য এই মাহবুবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যারা হত্যা করেছে তাদের নামে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী, মারামারি, চাঁদাবাজি সহ মোট ১৩ টি মামলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, , আজকে এই মামলার সাথে জড়িত সবুজ শিকদারের বাবা ইউনুস শিকদার সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মাছের জাহাজ লুট করে শ্রমিকদের হত্যা করে সাগরে ফেলে দিতেন। অভিযুক্ত চুন্নু বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের একজন বিতর্কিত নেতা। ওই ইউনিয়নের ভেতরে মদ, জুয়ার আসর বসে যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমেও এসেছে। এই চুন্নু ৫নং ঘাটে শ্রমিকলীগের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ভেতরে প্রতিদিন মদের বার বসায় এবং সেখানে সারা রাত জুয়া চলে। নৌযানের শ্রমিকরা তাদেরকে চাঁদাবাজির ঘটনায় হাতেনাতে ধরেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দেয়া হয়েছে। সবুজ শিকদারের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি রাতে বেলায় এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে নৌ পথে ও জাহাজ থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে। এর প্রতিবাদ করলেও নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এক পর্যায়ে এরা ভয়ংকর ও বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। আজকে তারা মামলার বাদী সহ সংশ্লিষ্টদেরও হুমদি দিচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী ও হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার চাই।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares
error: Alert: Content is protected !!