পুলিশ সোর্স ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গনপিটুনী দিয়ে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ

 

নারায়ণগঞ্জ কথা ডটকম : প্রতারণা  বন্দরে ভাসমান দোকান থেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে দুই ভূয়া সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালতের নাম ভাংগিয়ে নান্নু ষ্টোর থেকে চাঁদাবাজি কালে পুলিশ সোর্স শামীমকে গনপিটুনি দিয়েছেন এলাকাবাসী। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গনপিটুনী দিয়ে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। সে সাথে উত্তেজিত জনতা পুলিশ সোর্স শামীমকে গনপিটুনি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই সময় কৌশলে পালিয়ে গিয়ে প্রান রক্ষা পায় পুলিশের সাথে থাকা চাঁদাবাজ শরিফুল ইসলাম ও জি.কে রাসেল নামে দুই ভূয়া সাংবাদিক। পরে এলাকাবাসী থানার ওসির কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় দুই পুলিশকে রাতেই প্রত্যাহার ও সোর্স শামীমকে গ্রেফতার করে।

গতকাল রোববার তাকে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গত শনিবার রাতে ব্রহ্মপূত্র নদের পাড় সাবদি এলাকায় চাঁদাবাজিকালে তাকে আটক করা হয়। সোর্স শামীমকে আটকের পর পালিয়ে যাওয়া পুলিশের দুই এএসআইকে প্রত্যহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবদী এলাকার জনৈক রতন মিয়া জানায়, কতিপয় শরিফুল ও জিকে রাসেল সাবদী এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে নানা অপকর্ম করে বেড়াত। তারা প্রতারনার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক ও সাধারন জনগনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত হাজার হাজার টাকা।

 গত শনিবার রাতে সাবদী এলাকায় দুই ভূয়া সাংবাদিক বন্দর থানায় কর্মরত এএসআই আনোয়ারকে ম্যেজিস্ট্যোট বানিয়ে ও এএসআই আমিনুলকে পুলিশ কর্মকতা পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নাম ভাংগিয়ে নান্নু ষ্টোরে অভিযান চালায়। ওই সময় তারা এনার্জি ড্রিংক বিক্রির অপরাধে নান্নু ষ্টোর থেকে ২ লাখ দাবি করে। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে পরলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দুই এএসআইকে গনপিটুনী দিয়ে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এবং তাদের সাথে থাকা বন্দর রুপালী এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে পুলিশ সোর্স শামীমকে আটক করে গনপিটুনি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই সময় ভূয়া সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম ও জিকে রাসেল কৌশলে পালিয়ে যায়। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। অভিযুক্ত দুই সহকারি উপ পরিদর্শকের নাম আমিনুল ও আনোয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বন্দরের কালাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী এলাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের তীরে অস্থায়ীভাবে দোকানপাট গড়ে উঠে। এসব দোকানপাট থেকে বন্দর থানা পুলিশের এএসআই আমিনুল ও আনোয়ারের সোর্স শামীম ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে দিয়ে প্রতিদিনই টাকা উত্তোলন করতেন। প্রতিদিনের মতো এএসআই আমিনুল ও আনোয়ার এবং সোর্স শামীম গত শনিবার রাত ৯ টার দিকে সাবদী এলাকার ওই দোকানগুলো থেকে টাকা তুলতে যান। এসময় এলাকাবাসী শামীমের পরিচয় জানতে চাইলে তখন শামীম নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন।

উপস্থিত লোকজনকে সোর্স শামীম পরিচয় পত্র দেখতে পারেনি। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শামীমকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এএসআই আমিনুল ও আনোয়ার দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। এবং স্থানীয় ডাক্তারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ সোর্স শামীমকে উদ্ধার করে থানা হাজতে আটক করে রাখেন। গতকাল রবিবার আটক পুলিশ সোর্স শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে। এবং দুই পুলিশের এএসআই আমিনুল ও আনোয়ারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপূত্র নদের পাড়ে ভাসমান দোকান থেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদাবাজি কালে পুলিশ সোর্স শামীমকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। ওই ঘটনা জড়িত থাকার অভিযোগে দুই এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় সোর্স শামীমকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

নিউজ তথ্যসূত্র : ডান্ডিবার্তা 

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares