ইসলাম ডেস্ক :  কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা সবার জন্যে ফরজ নয়।  যে কোনো সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। তবে যারা সমর্থ থাকা শর্তে ওয়াজিব তরফ করে তাদের  সম্পর্কে হাদিস শরীফে লেখা আছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কোরবানি করে না- সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ মুলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। সূরা কাউসারের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন’।

কুরবানি শব্দটি এসেছে “কুরবান” থেকে। কুরবান মানে নৈকট্য, সান্নিধ্য, উৎসর্গ ইত্যাদি। জিলহজ মাসের দশ, এগার বা বার তারিখ আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সুন্নাতের অনুসরণপূর্বক ইসলামি শরিয়া নির্ধারিত পশুজবাই করাকে কুরবানি সাধারণত কুরবানি বলা হয় ।

কোরবানির ফজিল

যারা আল্লাহর নামে কোরবানি করে তাদের জন্য সীমাহীন সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবী করীম (সাঃ)  বলেছেন, কোরবানির দিনে কোরবানি করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। কোরবানির জন্তুর শরীরের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে কোরবানিদাতাকে একটি করে সওয়াব দান করা হবে। কোরবানির পশুর রক্ত জবাই করার সময় মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহ দরবারে কবুল হয়ে যায়। (মেশকাত) কোরবানির বিনিময়ে সওয়াব পেতে হলে অবশ্যই কোরবানিটা হতে হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, কোরবানির জন্তুর রক্ত-মাংস কোনো কিছুই আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না। তাঁর কাছে পৌঁছায় শুধু তোমাদের অন্তরের তাকওয়া।

কোরবানির গুরুত্ব

প্রকৃত মুমিনের জীবনের একমাত্র আরাধনা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আর কোরবানি তাকে অত্যন্ত দ্রুত স্থানে পৌঁছে দেয়। খলিলুল্লাহ হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) আত্মত্যাগের বলিষ্ঠ পরাকাষ্ঠা স্থপন করেই মহান মাওলার নৈকট্যের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন নিঃসন্তান।

যখন বয়সের ৮০ পেরিয়ে যাওয়া হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনের পতাকাবাহী একজন উত্তরসূরি রেখে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে মহান রবের দরবারে দীর্ঘদিনের কাকুতি-মিনতির পরে লাভ করেছিলেন একটি পুত্রসন্তান এই দুনিয়ায় । একমাত্র সম্বল পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর নামে কোরবানি করেন হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং মহিমাময় আল্লাহর মহান ইচ্ছা পূরণে নিজেকে তীক্ষ্ণ খঞ্জরের নিচে সঁপে দিয়ে হজরত ইসমাইল (আ.) আত্মত্যাগের যে মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যা আমরা অনেকেই জানি আবার কেও অজ্ঞ বটে।

আল কুরআনের বর্ণনায় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতিকথা বিবৃত হয়েছে এভাবে- অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম তাকে বললেন: ‘বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কি ?  সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী হিসেবে পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।’

অতএব সেই থেকেই হযরত ইব্রাহিম আঃ আল্লাহ নির্দেশ পালন ও তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আমরাও যদি আল্লাহ রাজি খুশির উদ্দেশ্য কুরবানী যদি সৎ ও হালাল নিয়মে তবে আশা করা যায় কুরবানি কবুল হবে।