সকল জাতী গোষ্ঠীর শোকের মাস পালন করা উচিত

186
সকল জাতী গোষ্ঠীর শোকের মাস পালন করা উচিত

বদিউজ্জামান খান : বাংলার শোকের মাস আগস্ট মাস। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস । ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, বাংলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।সেদিন আকাশ কালো মেঘে গোটা বাংলাকে অন্ধকার করে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেনান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত করেন ঘাতকদের একদল।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর  রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলাভ, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’-এর নিরঙ্কুশ বিজয়সহ সবই ছিলো তাঁর অবদান।১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার চেতনায়  ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ৭কোটি প্রাণ ।

২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা । আজ ইতিহাসে আমরা একটি স্বাধীন দেশের সূর্যকিরণে বসবাস করি।  সব কাজে ও লক্ষে কারো না কারো নাম লেখা থাকে, তবে বাংলা ও শেখ মুজিব এক সূত্রে গাঁথা।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির এক নক্ষত্র।  তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা।’৭৫-এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই শেষ হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করা হয়ে ছিলো।  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। পরে তাঁরই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে।যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্ব প্রকার ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

মুজিবাদর্শে ও আরাধনায় বাংলার আকাশ-বাতাস আজো যেনো পিতার সেই ভাষণ চেতনাকে জাগ্রত করে আমাদের পথ চালায় অনুপ্রাণিত করে তুলে।বঙ্গবন্ধু  চেয়েছিলেন বাংলা যেনো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন ।

বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করবে সেই লক্ষে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।আমরা যেনো এক লাজ্জিত ও কলংকিত জাতি দল ও ধর্ম যার যার হতে পারে কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবার। সকল জাতী গোষ্ঠীর শোকের মাস পালন করা উচিত।যখন বাঙালি জাতি একমনে যেদিন শ্রদ্ধা ও সম্মান করবে সেইদিন বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম এক মানচিত্র দেখবে বিশ্ববাসী ও বাঙালী গোষ্ঠী।