গাজীপুরে ভুয়া এমএলএম কোম্পানীর নামে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৩২ জন গ্রেফতার। ৭০ জন প্রতারিত উদ্ধার।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা ডটকম :‘লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক ভুয়া এমএলএম কোম্পানীতে অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৩২ জনকে গ্রেফতারসহ ৭০জন প্রতারিত ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১১। এসময় সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান নথিপত্র জব্দ করা হয়।

এর আগে বিভিন্ন এমএলএল কোম্পানী প্রতারণার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে যানা যায়। পরবর্তীতে সরকার বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানীর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলো। কিন্তু বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানী নানা পন্থায় এখনো প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বেকার যুব সমাজকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, প্রতারিত ও ভূক্তভোগী কয়েক জনের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং অনুসন্ধানে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ একটি আভিযানিক দল গাজীপুরের টঙ্গী থানার মধুমিতা রোড থেকে “লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড” নামের এমএলএম কোম্পানীতে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারকচক্রের ৩২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাছির হায়দান খান(৫৫), পরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন(৪৫), পরিচালক/শিক্ষক মোঃ আবু নছর(৫০) মার্কেটিং অফিসার মোঃ বাবুল হোসেন(৩১), ম্যানেজার মোঃ লুৎফর রহমান(৪০), মার্কেটিং মোঃ সেলিম রেজা(৩২), প্রশিক্ষক মোঃ জালাল আহম্মদ(৪০), অফিস সহকারী মোঃ শাহীন(২৪), মোঃ সিরাজ(২৫), ডিস্ট্রিবিউটর মোঃ সাজ্জাদ(২২), মোঃ মামুন খন্দকার(৩৪), মোঃ সাকিল(৩০), মোঃ নাজমুল হক(২৪), শ্রী পলাশ সরকার(২৪), মোঃ মাসুদ রানা(২২), মোঃ তালহা(২৪), মোঃ ছাইদুর(২২), মোঃ আঃ রহমান(২৪), জেভিয়ার জেংচাম(২৩), মোঃ সাকিব(২৩), এ্যালবিন(২১), মোঃ রহিম বাদশা(২১), বাপন(২৫), মোঃ রুবেল হোসেন(২৭), শিপন রায়(৩২), মোঃ আমিনুর রহমান(২৫), মোঃ তাছলিম উদ্দিন(২৯), মোঃ জাহিদুল ইসলাম(২২), মোঃ শওকত হোসেন(২১), মোঃ আরাফাত(২০), মোঃ আনোয়ার হোসেন(২৪) এবং মোঃ নাজমুল হক(২৬) রয়েছে।

র‌্যাব আরো জানায়, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে ও জব্দকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় যে,“লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড” নামক ভুয়া এমএলএম কোম্পানী মাসিক ১৬ হাজার ও তার উপরে টাকা বেতনের প্রতিশ্র“তিসহ লোভনীয় অফার দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকুরী প্রত্যাশী বেকার যুবক-যুবতীদের ফাঁদে ফেলে। ভর্তির শুরুতে কোম্পানীর আর্থিক লাভ ও পণ্য বিক্রির কমিশনের আশ¡াসে বাধ্যতামূলক জামানত হিসাবে জন-প্রতি ৫৫ হাজার বা তারও বেশী টাকা গ্রহন করে। পরবর্তীতে প্রশিক্ষনের নামে সপ্তাহ খানেক কালক্ষেপন করে প্রত্যেককে নতুন ০২ জন সদস্য সংগ্রহের শর্ত প্রদান করে। নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দিলে সংগৃহীত টাকার সামান্য কমিশন প্রদান করে। নতুন সদস্য দিতে না পারলে কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে খালি ষ্ট্যাম্প ও আপোষনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে ভাড়াটিয়া লোকজন দ্বারা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনও করে থাকে।

অভিযানের সময় ভুয়া এমএলএম কোম্পানীর সু-সজ্জিত অফিস থেকে প্রতারণার শিকার ৭০ জন ভূক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উক্ত কোম্পানীর অফিস থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪০টি মোবাইল, ০১টি কম্পিউটারের মনিটর, ০১টি সিপিইউ, ০১টি প্রিন্টার এবং বিপুল পরিমাণ ভুয়া ডকুমেন্ট (ভর্তি ফরম, নিয়ম ও শর্তবলী ফরম, পন্য ক্রয়ের ভাউচার, আপোষ নামা, অঙ্গীকারনামা, সাপ্তাহিক হিসাব রেজিষ্টার, স্পনসর নোট রেজিষ্টার, টাকা জমার রশিদ, ষ্ট্যাম্প, হাজিরা বই ও পণ্য সরবরাহের চুক্তিপত্র) উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares