রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০

হাসপাতাল আংশিক চালু, শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে না

 

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আংশিক চালু হয়েছে। আগুন লাগার কারণে সরিয়ে নেওয়া রোগীদের অনেকেই আবার হাসপাতালে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আগুনে শিশু ওয়ার্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত এই হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না।

আজ শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এ কথা জানা গেছে। আগুন লাগার পর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত রোগীদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

নিচতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়ি কক্ষ পুড়ে গেছে। ছবি: সাজিদ হোসেন

নিচতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়ি কক্ষ পুড়ে গেছে।

সকালে নিচ তলার জরুরি বিভাগের সামনে কথা হচ্ছিল যশোরের নায়েম আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, আগুন লাগার পর তিনি ও অন্য স্বজনেরা মিলে তাঁর বাবাকে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সকালে বাবাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। নায়েম জানান, সোহরাওয়ার্দী থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন এমন ৭-৮ জন রোগীকে তিনি সকালেই ফিরে আসতে দেখেছেন।

হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা গেল, কেউ অ্যাম্বুলেন্সে করে, কেউ সিএনজি বা রিকশায় করে রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসছেন। হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ এবং বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড পুরোদমে চালু হয়েছে। তবে শিশু ও মহিলা ওয়ার্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে না।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফিরতে শুরু করেছেন অনেক রোগী। ছবি: সাজিদ হোসেন

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফিরতে শুরু করেছেন অনেক রোগী।

এখনো নিশ্চিত করে কেউ কিছু না বললেও হাসপাতালের কর্মরত ব্যক্তিরা বলছেন নিচতলার স্টোর রুম থেকেই আগুন লেগেছে। সেখান থেকে আগুন তিনতলা পর্যন্ত উঠে যায়। পুরো সিঁড়ি রুম আগুনে পুড়ে গেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ২য় ও ৩য় তলায় মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বেডগুলো পুড়ে গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক উত্তম বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করার কাজ চলছে। বেশির ভাগ অংশ চালু হয়েছে। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত রোগীদের ফিরে আসারও আহ্বান জানান।

পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে নেই কোনো রোগী। ছবি: সাজিদ হোসেন

পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে নেই কোনো রোগী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হাসপাতালটি আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় তিন ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতালে থাকা প্রায় এক হাজার ২০০ রোগীকে তাৎক্ষণিকভাকে বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশের কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তাদের হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। যদিও সোহরাওয়ার্দী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares
error: Alert: Content is protected !!