খেলার সংবাদ: এই না হলে নেতা। একেবারে সামনে থেকে লড়াই করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডকে জিতেই মাঠ ছাড়লেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৪ উইকেটের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে ফের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল কিউইরা। 

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২৪১ রান জমা করতে সমর্থ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ২৪২ রানের লক্ষ্য  তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভারের ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। দলের জয়ে অনবদ্য ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড। 

শুরুটা অবশ্য ভাল ছিল না কিউইদের। দলীয় ১২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার কলিন মুনরো (৯)। এরপর মার্টিন গাপটিল ব্যক্তিগত ৩৫ রানে ফিরলে কিছুটা হলেও চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপরই রস টেলর (১) ও টম লাথাম (১) চটজলদি বিদায় করে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা।

কিন্তু তখনই সব দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলেন নেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। সঙ্গে তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। দুজনই ম্যাচের দৃশ্যপট ফের পাল্টে দেন। তাদের দাপুটে আর দ্বায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের পথ খুঁজে নেয় ফেভারিটরা। 

৪৭ বলে ৬০ রান করে ফেরেন গ্র্যান্ডহোম। তবে উইলিয়ামসন ঠিকই দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে তুলে নেন শতরান। শেষ অব্দি ১৩৮ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন কিউই ক্যাপ্টেন। ইনিংসে ছির ৯ বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা।

বুধবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল  কিন্তু বৃষ্টির কারণে টস হলো নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পর। টস জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক  কেন উইলিয়ামসন। বৃষ্টি ভেজা ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েন আমলা। ৩৫ বলে ২৩ রান করে লুকি ফার্গুনসনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যান আমলা। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। মিসেল স্ট্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আমলা। তার আগে ৮৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম (১৭৬ ম্যাচ) ৮ হাজার রান সংগ্রহ করেন আমলা। দক্ষিণ আফ্রিকান চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৮ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

আমলার বিদায়ের পর দ্রুত আউট হন অ্যাডাম মার্কওরাম। তিনি ৫৫ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন। তবে রিশি ভ্যান দার ডুসেনের অপরাজিত ৬৪ বলের ৬৭ রানে ভর করে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া ৩৬ রান করেন ডেভিড মিলার।