সিদ্ধিরগঞ্জের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাকারী সিন্ডিকেটের ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ


সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় একটি ভুক্তভোগী পরিবার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাকারী সিন্ডিকেটের ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে। বুধবার (২৬ জানুয়ারী) সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নং ওয়ার্ডের পাইনাদী পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মো: ইকবাল হোসেন (৩৬) বাদী হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ অভিযোগটি দাখিল করেছেন।


অভিযুক্তরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া পাগলাবাড়ী এলাকার মো: জসিম, মো: ফারুক, মো: ফরহাদ, মো: বাবু, ইমরান, মেহেদী, মো: ইলিয়াস ও দেলু।
অভিযোগে ইকবাল উল্লেখ করেছেন, গত মঙ্গলবার ২৫ জানুয়ারী সিআইখোলা এলাকা থেকে মাদকসহ অভিযুক্তদেরকে হাতে-নাতে ধরি। পরবর্তীতে তারা আমার বাড়ীতে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তখন আমি তাদেরকে গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে তারা সকলে মিলে আমাকে এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে এবং আমার ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করিয়া মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীতে তাদের লোকজন আসিয়া আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয় এবং আমার উপর হামলা করে এবং বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে আমার ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ (১৪ মাস) কে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন বাধা দিলে তখন আমার ছেলেকে রেখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ত্যাগ করে চলে যায়। এসময় তারা আমার গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিনাইয়া নিয়ে যায় এবং আমার ঘরে থাকা গাড়ি কিনার জন্য কিস্তি থেকে তোলা টাকা ২,৯৫,০০০ (দুই লক্ষ
হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায় এবং আমাকে জীবনে মেরে ফেলবে হুমকি প্রদান করেন। তাহারা আমাকে খুন জখম করিবে বলিয়া ভয়-ভীতি দেখায়। পরে আমি খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেই। তাদের ভয়ে আমি এবং আমার পরিবার অত্যন্ত ভীত অবস্থায় দিনাতিপাত করিতেছি।


জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাই, চাঁদাবাজ ও কিশোরগ্যাং সিন্ডিকেট। সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নং ওয়ার্ডটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশদ্বার শিমরাইল মোড় ও নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী-শিমরাইল সড়কের নিকটবর্তী হওয়ায় এই এলাকাটি একটি ক্রাইমজোন হিসেবেই চিহ্নিত। ইতিমধ্যে, মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে এ ওয়ার্ডটিতে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটনায় এলকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসাধু ব্যক্তিবর্গের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বীরদর্পে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই হামলার শিকার হতে হয় বলেও কেউ প্রতিবাদ করে না। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদেরকে ইতিপূর্বে র‌্যাব-২, র‌্যাব-৩, র‌্যাব-১০, র‌্যাব-১১ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বিপুল পরিমান মাদক সহ এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজীর অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। তবুও থেমে নেই এই দূধর্ষ সিন্ডিকেটর অপরাধ কর্মকান্ড। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দুই দিন আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০ তলা ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের ছুড়িকাঘাতে নিহত সেনা সদস্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩ ছিনতাইকারীও এই এলাকার বাসিন্দা। এই অপরাধী সিন্ডিকেটের অত্যাচরে এলাকাবাসী ভীত-সন্ত্রস্ত। এই দুস্কৃতিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযত তদন্ত পূর্বক আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

সর্বশেষ