ফতুল্লা নয়ামাটি ১০০ পিচ ইয়াবা সহ পিংকী ও তার সহযোগী গ্রেফতার

 

নারায়ণগঞ্জ কথা ডটকম : (ফতুল্লা প্রতিনিধি)মাদকের গ্রাস কিছুতেই কমছেনা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নে চলছে ইয়াবার রমরমা ব্যবসাধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী রাঘব-বোয়ালরাআর পুলিশসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীরাফলে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না এই ব্যবসার প্রসারতা

অধিক লাভজনক ও বহনে সহজতর হওয়ায় দিন দিন নতুন নতুন যুবক-যুবতী ঝুকে পড়ছে এই ইয়াবা ব্যবসায়বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, কুতুবপুরের পাগলা নয়ামাটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পিংকী (৪০) তার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা, নয়ামাটি, চিতাশাল, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, নন্দলালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই ইয়াবা ব্যবসার নেটওয়ার্ক স্থাপন করে গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে এই মাদক ব্যবসা

ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার বেকার তরুণ যুবক-যুবতীরা সহজলভ্যতার কারণে ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছেএকাধিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা চালানো হয়পুলিশের সঙ্গে যখন লেনদেনে সমস্যা দেখা দেয় তখন শুরু হয় লোক দেখানো অভিযান ও ধড়পাকড়নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবপুর ইউনিয়নের একাধিক বিভিন্ন শ্রেণীর বাসিন্দা,এলাকার মুরুব্বিরা ও এলাকার অটোরিকসা চালকরা জানিয়েছে এসব তথ্যকয়েক বছরের মধ্যেই নারী মাদক ব্যবসায়ী পিংকীর মাদক ব্যাবসার ব্যাপক বিস্তার করে ফেলে কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায়প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মাদকের খুচরা ও পাইকারীসহ হোম ডেলীবারি সার্ভিস দিয়ে থাকে পিংকী

এমতাবস্থায়, সে সময়কার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হকের সতর্ক দৃস্টিতে পিংকীর নিজ বাড়ী থেকে ১০০ পিচ ইয়াবা সহ পিংকী ও তার সহযোগী রাব্বি কে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শাফিউল আলমগত (২০ জানুয়ারী ২০১৮) পাগলা নয়ামাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়এরপর মামলা দিয়ে জেল হাজতে পেরন করা হয়ইয়াবা মামলয় তিন মাস জেল খেটে পুর্নরায় শুরুকরে ইয়াবা ব্যবসাগত (১৭ মে ২০১৮) দ্বিতীয় বারের মত পাগলা নয়ামাটি পিংকীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৭০০ পিস ইয়াবাসহ পিংকীর কথিত স্বামী পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে খোরশেদ আলম (৩৫) এবং পিংকীর আরেক নারী সহযোগী পঞ্চবটি, দেওভোগ এলাকার জামালের স্ত্রী সুফিয়া(৫০) কে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানাে এসআই সাফিউল আলমগত (৪ জুন ২০১৮) পাগলা নয়ামাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিংকীর বাড়ী থেকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ পিংকী (৪০) ও তার আরেক নারী সহযোগী মোসাঃ সোনিয়া (৪৫) কে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কাজী এনামুল হক

মাদক সম্রাজ্ঞী পিংকী কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার সারোয়ারের স্ত্রীএরপর আটককৃত পিংকী ও তার মাদক ব্যবসার সহযোগীদের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দ্বায়ের করা হয় এবং মাদক মামলায় ছয় মাস জেল হাজতে থেকে পুনরায় আবার কিছু দিন অাগে জামিনে মুক্ত হয়জেল থেকে বের হওয়ার পর পিংকী বর্তমানে আরও ভয়ানক ও হিংস্র হয়ে ইয়াবার ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়বর্তমানে পিংকী নতুন নতুন কৌশলে এলাকার একদল তরুন ছাত্র এবং তার বাড়ীর ভাড়াটিয়া ও কিছু বিশস্ত কর্মজীবি শ্রমিকের মাধ্যমে খুচরা ও হোম ডেলিবারী দিয়ে ইয়াবা ব্যাবসা চালাচ্ছে

নয়ামাটির বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়াবা ব্যাবসায়ী পিংকীর খুব কাছের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী উজ্জীবিত বিডি ডটকমকে জানায়, এবার জেল থেকে বের হওয়ার পর ইদানীং পিংকী নিজেকে পুলিশের সোর্স বলে দাবি করে এবং বর্তমানে পিংকীর নিজের বাড়ীতে ঘরে বসে ক্রয় করতে আসা সেবনকারীদের কাছে ইয়াবা বিক্রির পর লেনদেনে সমস্যা হলে পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে ভয় দেখিয়ে বিপুল টাকা আদায় করে নেয়চাহিদামত টাকা দিতে অসমর্থ হলে ফোন করে পুলিশের কাছে পোষাকের বর্ননা দিয়ে ধরিয়ে দেয়স্থানীয় ফতুল্লা মডেল থানার কিছু পুলিশ সদস্যের সাথে পূর্বের সম্পকের সূত্রে দু-একজন পুলিশ ও এসআইর সাথে সক্রিয় যোগাযোগ রেখে মাদক সেবিদের কাছে মাদক বিক্রি করে তৎখনাৎ পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করেপিংকীর সহযোগী আরো জানায় , ইয়াবা ট্যাবলেট হোম ডেলিবারী করা ও পাইকারী বিক্রয় করাই পিংকীর মূল ব্যবসা

পিংকী নিজে খুচরা ইয়াবা বিক্রি করার একমাত্র কারন ও কৌশল হল, পিংকীর কাছে ইয়াবা কিনতে আসা আসক্তদের ২/১জন ধরিয়ে দিয়ে পুলিশকে প্রতিনিয়ত বসে রাখা এবং পুলিশের চোখে নিজে কিছুটা ছাড় পাওয়াযার ফলে,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশও কিছুটা ছাড় দেয় পিংকীকে ও তার অবৈধ ইয়াবা ব্যবসাকেআর এই সুযোগে পিংকীর রমরমা পাইকারী মাদক ব্যাবসা চলছে পুরো কুতুবপুর ইউনিয়নেএছারাও পিংকীর অবৈধ ইয়াবা ব্যবসার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে বা বাধা হয়ে দাড়ায়, সেসব লোকদের পুলিশের নজরে পিংকী নিজেই মিথ্যা সীকারোক্তির মাধ্যমে ফাসিয়ে দেয় বা তার আরেক ঘনিস্ঠ সহযোগী পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত নন্দলালপুর এলাকার ডাকাত নয়ন (৪৫) এর মাধ্যমে যে কাউকে ইয়াবা আসক্ত বা মাদক ব্যাবসায়ী বলে সনাক্ত করে দেয় পুলিশের মাদক অভিযান তালিকায়

পুলিশ কে বলা মাদক ব্যবসায়ী পিংকীর মিথ্যা সীকারোক্তির কারনে , কৌশলে পকেটে মাদক দিয়ে পুলিশ দিয়ে ফাসানো সহ, নিরঅপরাধ অনেক লোককে এভাবে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে পিংকীর বিরদ্ধেপাগলা নয়ামাটি এলাকায় তার নিজ বাসা-বাড়ীতে পিংকী নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় এবং স্থানীয় গোপনসূত্রে আরও জানাযায়, পিংকীর পালিত দুই মেয়ে সহ বাড়ীর ভাড়াটিয়া মহিলাদের দিয়ে আদানপ্রদান করে ইয়াবার বড় বড় চালানএরপর পিংকী নিজে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিটি এলাকার ছোট -বড় খুচরা মাদক বিক্রেতাদের কাছে হোম ডেলিবারীর মাধ্যমে পাইকারী বিক্রয় করে এই সর্বনাশা ইয়াবা

এলাকাবাসীর অভিমত, একাধিক মাদক মামলার আসামি থাকার পরও পিংকী অনেকটা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা এবং এলাকা বিস্তৃত হয়ে উঠছে মাদকের সর্গরাজ্যেমাদক ব্যবসায়ী পিংকী ও তার সহযোগীদের ভয়ে এবং পুলিশ হয়রানির কথা চিন্তা করে কেউ এসবের বিরুদ্ধে থানায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতেও সাহস পায় না বলে জানায় কুতুবপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাগন

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares