পূর্ব শত্রুতার জের ধরে টুম্পার উপর সন্ত্রাসী হামলা ও মানহানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার আরিফ হোসেন  : পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বন্দর মুসাপুর ইউনিয়নে আসলামের নেতৃত্বে মনির, আলী আকবর ,নাসির ওয়াসিম,বাবুল জহিরুল, মাসুম,,আলামিন গং প্রবাসী তরিকুলের স্ত্রী মুক্তা বেগম টুম্পার উপর সন্ত্রাসী হামলা ও মানহানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে  মােসাম্মদ মুক্তা বেগম টুম্পা বলেন, আমি মুক্তা বেগম টুম্পা স্বামী  তারিকুল ইসলাম সাং মালিবাগ, গােলবারপাড়া, মুসাপুর ইউনিয়ন থানা বন্দর জেলা নারায়ণগঞ্জ।

এই মর্মে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে লিখিত অভিযােগ করিতেছি যে, আমি একজন গৃহীনি আমার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত দেশের বাহিরে কর্মরত আছে। আমার ৭ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। ইতি পূর্বে আমার বাড়ীর জায়গা ঠিকমতাে বুঝিয়ে না পাওয়াতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযােগ করিলে পুলিশের সহযোগিতায় জায়গার সমস্যা সমাধান হয়, সেই থেকে অত্র এলাকার একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে আসছে তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১২ই মার্চ বিকেল আনুমানিক ৬ টায় একদল সন্ত্রাসী তাদের মধ্যে মনির, আলী আকবর,নাসির,ওয়াসিম,বাবুল জহিরুল, মাসুম,আমু, আলামিন গং আমার বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে আমার বুকে লাথি সহ গলা টিপ দিয়ে খাসরুদ্ধ করে আমাকে প্রাননাশে মেরে ফেলার চেষ্টা সহ আমাকে র্যাপ করার চেষ্টা করে পরে তারা অপারক হয়ে ঘরের ভাঙচুর করে চলে যায়।

এ সময় আমার ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে তারা ধরে রাখে এবং আমার ছেলের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। আমি চিৎকার করার পরে তারা পালিয়ে যায়। এর আগে তারা আমার ব্যবহারকৃত মােবাইল সেট স্যামসাং মোবাইল নং ০১৮৬৩৯৬২৮৭৭ (৩ ক্যামেরা) ৩০ হাজার টাকা দামের ও ২ ভরি ওজনের গলার চেইন সহ ১ ভরি ওজনের হাতের স্বর্নের ব্যাচলেট নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাদেরকে সাহায্য করে অত্র এলাকার মহিলা সন্ত্রাসী নিলুফা ইয়াসমিন,আছমা ও সপ্না এরা আমার বাড়ীর নিচে দাড়িয়ে পাহারা দেয়। হামলা হওয়ার আগে গনমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে চাচা তার নিকট বিষয়টি অবহিত করে বলি যে, গােপন সংবাদে জানতে পারলাম আমার উপর যে কোন সময় শত্রু পক্ষ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা করতে পারে, ঠিক ঐ সময়ই উপরােক্ত সন্ত্রাসীরা আমার ঘরে ঠুকেই ফোনটি ছিনিয়ে নেই পরে গলার চেইন,ব্যাচলেট নিয়ে নেয়।

এ সময় আমি চিৎকার করতে থাকি চাচা বন্দর থানা পুলিশকে ফোন দিন আমার উপর হামলা হয়েছে এর পর লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সন্ত্রাসীরা হামলা ছিনতাই করে চলে গেলে আমি নিজেকে বাচাতে একটি সি এন জি নিয়ে প্রথমে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যায় সেখান থেকে আমাকে রেফার্ড করা হয় ভিকটরিয়া হাসপাতালে।

আমি পুনরায় সিএনজি নিয়ে বন্দর থানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিন্তু থানা গেট আসার পর আমার শারিরিক অবস্থা খারাপ হলে আমি আমার চাচার সাথে ভিকটরিয়া হাসপাতালে রাত ৮.১০ মিনিটে চিকিৎসা নেয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত ডাক্তার সিটি স্ক্যান ও গলার এক্সরে করতে বলে। আমার সাথে ঐ পরিমান টাকা না থাকায় আমি টেস্ট গুলাে না করে কোন প্রকার ব্যাথার ঔষুধ খেয়ে চাচা ও তার অফিস স্টাফ এর সহযােগিতা নিয়ে রাত ১১টার পরে একটি গাড়ী ভাড়া করে নিজ বাড়ী মালিবাগের উদ্দেশ্যে রওনা হলে জানতে পারি সন্ত্রাসীরা আমাকে পেলে পূনরায় হামলা করবে।

তার পরেও আমি আল্লাহর নাম নিয়ে তাদেরকে নিয়ে নিজ বাড়ীতে গিয়ে প্রয়ােজনীয় জিনিপত্র নিয়ে চোরের মতাে রাত ১টায় নিজের জীবন বাচিয়ে পুনরায় কাশিপুর আমার ফুফুর বাসায় অবস্থান নেয়। এই সকল সন্ত্রাসীরা আমার সতিত্ব নিয়ে আজে বাজে কথা বলছে যা একজন সচেতন মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে পারছিনা কারন একটি মেয়ের তার মূল সম্পদ হচ্ছে তার সত্বিত্ত।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৫ই মার্চ ২০২১ এলাকার শত্রু পক্ষ বিল্লাল তার ১৫ বছরের ছেলেকে দিয়ে আমার ছেলেকে অহেতুক মেরে রক্ত ক্ষরন করে। বিল্লালের ছেলে কেন আমার ছেলেকে মেরেছে বিষয়টি জানার জন্য তার বাড়িতে গেলে সেখানে তারা আমাকে অশ্লিল ভাষায় গালা গালি করে এবং আমার ছেলেকে শ্বাসরুদ্ধ করে মারার চেষ্টা করে। পরে আমি সেখান থেকে ছেলে সহ নিজের জীবন বাচিয়ে চলে আসি। পরবর্তিতে আমার ও আমার ছেলের জীবনের নিরাপর্তার জন্য বন্দর থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করি। বন্দর থানা পুলিশ তদন্ত করে এর সতত্যা পেলেও কুচক্রি মহলের কিছু ক্ষমতা ধরদের কারনে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে সক্ষম হচ্ছেনা।

এই সব কিছুর মূল হােতা হিসেবে কাজ করছে অত্র এলাকার বসবাসকারী আসলাম তিনি বর্তমানে কর্মরত কারনে ঢাকা থাকে। আমি কি অপরাধ করেছি তার কাছে যে, সে আমার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ লেলিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন থেকে কিছু নামধারী সাংবাদিকদের দিয়ে মনগড়া ভিডিও তৈরী করে এবং পুলিশের সাথে কথা বলে তারা আমার পূর্বের অভিযােগ গুলাে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। আমার ঢারিত্রিক ও মানহানিকর অপপ্রচার করার জন্য তারা সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যম সােস্যাল মিডিয়া তথা ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলােড করে এতে সমাজে আমার মান ক্ষুন্ন হয়।

অত্র এলাকায় আমার পক্ষে স্বাক্ষীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে এমনকি তাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে যেন কোন প্রকার আমার পক্ষে পুলিশের কাছে সাক্ষী না দিতে পারে। ঐ সকল সাক্ষীদের ঘর ছারা করে পরে পুলিশ কর্মকর্তা বিল্লাল হােসেনকে তাদের অপকর্মের ধারন করা ভিডিও ফুটেজ দেখালে সে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে আমার স্বাক্ষীদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। তাদের অপকর্মের কথা প্রতিবাদ করিলে তারা ইতিপূর্বেও আমাকে প্রানে মেরে ফেলারও ছমিক দেয় এবং আমি যখনই আইনের স্বরনাপন্ন হয় তখন তারা আমাকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলতে থাকে। আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে বলেই আমি পুলিশের সহযােগিতা নিয়ে থাকি কারন আমার স্বামী বিদেশ থাকে, প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা কে দিবে? আমাকে অসহায় পেয়ে আমার সতিত্ব নষ্ট করতে টেলিফোনে হুমকি দেয় মনির, আলী আকবর, নাসির ওয়াসিম বাবুল,জহিরুল,মাসুম,আলামিন সর্ব গং মালিবাগ,চান্দের বাড়ী থানা বন্দর।

আমি কোন উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানাই পরে শত্রু পক্ষ আমাকে বলে তার বিরুদ্ধে যে ভিডিও করেছি তা ফেসবুকে ছেরে দিবাে আমাদের কথায় রাজি না হলে। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় কিছু মহিলা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা শিখিয়ে একটি ভিডিও তৈরী করে সেটা ফেসবুকে ছারে এতে আত্মীয় মহলে আমার মান ক্ষুন্ন হয়। একজন মেয়ে হয়ে আমার সতিত্বে কলঙ্কর দাগ যেন না লাগে সে ব্যাপারে আমি এই সকল নরপিচাশদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত তাই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে সমাজের বিবেকবান সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছি ন্যায় বিচার পেতে, সেই সাথে সমাজের এই সকল অপরাধীদের মুখােশ উন্মােচন করতে।

আজ আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং নিজ বাড়ী ছেরে আমাকে অনত্র থাকতে হচ্ছে। বন্দর থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত আছে কিন্তু তারা এলাকার ক্ষমতাশালীদের কারনে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেনা তবে আমি ন্যায় বিচার পেতে ও আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আজই লিখিত আকারে অভিযােগ দায়ের তথা মামলা করবাে।

এই সকল চিহ্নিত অপরাধিরা ভবিষ্যতে যেন সমাজের আর কোন অসহায় অবলা নারীদের চরিত্র নিয়ে কথা না বলতে পারে,সন্ত্রাসী হামলা না করতে পারে সে ব্যাপারে আমি আপনাদের সকলের সহযােগিতা সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

 

নারায়ণগঞ্জ কথা এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Shares